Doinik Bangla Khobor

লালমনিরহাট কালীগঞ্জে দুলছে পাকা ধান চিন্তিত কৃষকের মন

মো.হাসমত উল্ল্যাহ,লালমনিরহাট থেকে :
লালমনিরহাট জেলা কালীগঞ্জ উপজেলায় চলতি ইরি-বোরো মৌসুমের শত শত একর জমির সোনালী রংয়ের পাকাধান এখন বাতাসে দুলছে। এবার ইরি-বোরো ধানের বাম্পার ফলন হবে বলে কৃষকরা আশায় বুক বেধেঁ আছে। আবহাওয়া অনুকূল থাকলে ও শ্রমিক সংকট না হলে মাঠ থেকে সময়মত ধান কেটে ঘরে তুলতে পারলেই এলাকার কৃষকদের মুখে হাসির ঝিলিক দেখাযাবে।

করোনার মহামারীতে দেশের অর্থনৈতিক ক্ষতির পাশাপাশি সবপেশার মানুষে কমবেশী ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। ফলে কৃষক থেকে শুরু করে সবপেশার মানুষ মৌসুমের এই ইরি-বোরো ধানের দিকে তাকিয়ে আছে। ইতিমধ্যে সরকার কৃষকদের বিভিন্ন ধরনের সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছেন। বৈইরী আবহাওয়া শিলাবৃস্টি বা বন্যায় মৌসুমের ইরি-বোরো ধানের ফলন বিপর্যয় ঘটলে কৃষকরা ও ক্ষতিগ্রস্থ হবে।

লকডাউনে ধানাকাটা শ্রমিকদের যাতায়াতে কোন বাধা নাথাকায় ইতিমধ্যে উত্তরাঞ্চলের লালমনিরহাট জেলা কালীগঞ্জ উপজেলা এর আশপাশ এলাকা থেকে ধানকাটা শ্রমিকরা পিকাপ, মাইক্রোবাস, যোগে কাজের সন্ধানে দেশের দক্ষিন অঞ্চলে যান।

তবে স্থানীয় কৃষকরা জানান, চাহিদার তুলনায় অনেক কম শ্রমিক যাচ্ছে। লাগাতার বৃষ্টিপাত ও বৈইরী আবহাওয়ার কবলে পরলে ধানকাটা শ্রমিক সংকট দেখা দিলে চলতি ইরি-বোরো ধান নিয়ে বিপাকে পরতে হবে বলে অনেকে মনে করছেন। দেশের বিভিন্ন স্থানে বৈশাখ মাসের প্রথম থেকেই ঝড় শিলাবৃষ্টিসহ দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারনে এই এলাকার কৃষকরা মৌসুমের ইরি-বোরো ধান নিয়ে দুঃচিন্তায় পরেছে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন মিলে জমিতে বিভিন্ন জাতের উচ্চ ফলনশীল বোরো ধানের আবাদ করা হয়েছে। এবার কৃষকরা জিরাশাইল, পারিজা, ব্রিধান, হাইব্রিড-তেজ, এসিআই-১ বলিয়া-২সহ প্রভৃতি জাতের বোরো ধানচাষ করছেন।

কৃষি বিভাগের দাবি, চলতি মৌসুমে ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যেতে পারে। সারাদেশে করোনাভাইরাস আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লেও কৃষকরা জমির ক্ষেতের পরিচর্যার কোনো কমতি করছেন না। শেষ সময়েও রোগ-বালাই দমনে অনেক কৃষক মোবাইল ফোনে কৃষি বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছ থেকে পরামর্শ নিচ্ছেন। এবারের বোরো আবাদ তেমন কোন রোগবালাইয়ে আক্রান্ত হয়নি বলে দাবিও তাদের। ফলে শত দুঃচিন্তার মধ্যেও আনন্দে দুলছে কৃষকের মন।

কালীগঞ্জ উপজেলার সতির পাড় গ্রামের কৃষক মফিজ উদ্দীন, পাটিকাপাড়ার সুবাশ চন্দ্রসহ বেশ কয়েকজন বলেন, রোগবালাইয়ের আক্রমণ থেকে ফসল রক্ষা করতে তারা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তার সাথে মোবাইল ফোনে পরামর্শ নিয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছেন। তবে ফলন ভালো হলেও তারা দুঃচিন্তায় রয়েছেন শ্রমিক নিয়ে।