Doinik Bangla Khobor

আশুলিয়ায় মিথ্যা মামলায় জেল হাজতে লাকী বেগম দুর্ভিক্ষে তিন শিশু সন্তান

আশুলিয়া প্রতিনিধি :
আসন্ন ইউপি নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা শিকার হচ্ছেন কিছু অসহায় সাধারণ মানুষ। আর এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে অবৈধ ভাবে অর্থসম্পদ করার জন্য মরিয়া একটি মহল। আর তাদের সার্থ হাসিল করতে ব্যবহার করা হচ্ছে অসহায় নিম্নবিত্ত মানুষ গুলো কে।
সম্প্রতি ঢাকার অদূরে আশুলিয়ার ঘোষবাগ এলাকায় ঘটেছে এমনই একটি ঘটনা বিরল ঘটনা। চুল কেটেছে সাদু বেগম নামে এক নারীর এমনি একটি অভিযোগে ও মিথ্যা মামলায় জেল হাজতে অসহায় লাকী। মানবতার জীবন পার করছে লাকী বেগমের তিনটি শিশু সন্তান।
মামলার বাদীনি সাদু বেগমের দাবি আমি ঘোষবাগ এলাকায় বসবাস করা অবস্থায় লাকী বেগমের দোকান থেকে বিভিন্ন জিনিসপত্র বাকি নেওয়ায় প্রায় ১০ হাজার টাকা বাকি ছিল এই দোকানে। বাকি পরিশোধ না করে তিন বছর আগে আমি ঘোষবাগ এলাকা থেকে গ্রামের বাড়ি নেত্রকোনায় চলে যাই ।
তিন বছর পর গত ১৯ অক্টোবর বেলা ১১টার দিকে চাকরি নেওয়ার জন্য নরসিংহপুর হামীম কারখানার সামনে গেলে লাকী আমাকে ডেকে তার দোকানের সামনে নিয়ে যায় ও পাওনা টাকার জন্য চাপ সৃষ্টি করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও মারপিট করে।
একপর্যায়ে দোকানে থাকা কেচি দিয়ে আমার মাথার চুল কেটে ফেলে। পরে আমাকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে তাড়িয়ে দেওয়া হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান , এধরণের কোন ঘটনা ঘটলে আমরা অবশ্যই কিছু হলেও জানতাম। একজন মহিলা আরেক জন মহিলাকে এককাই ধরে নিয়ে একাই চুল কেটে দিলেন। আমরা কেউ দেখলাম না। এত বড় একটি ঘটনা ঘটলো কোন সাড়া শব্দ হলো না। আমাদের মনে হচ্ছে এখানে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বলির শিকার হয়েছেন ভুক্তভুগি দুই নারীই ।

এলাকা বাসী বলেনঃ আটক ভুক্তভোগী লাকী বেগম পিরোজপুরের ঈশ্বরকান্দি থানার কালাইয়া গ্রামের জাকির হোসেনের স্ত্রী। তিনি দীর্ঘদিন যাবৎ আশুলিয়ার ঘোষবাগ এলাকার খোরশেদ আলমের ভাড়া বাড়িতে ৩০ পাড়া কোরআনের হাফেজ, রিয়াজ উদ্দিন (১২) এক বছরের একটি কন্যা আয়শা সহ (৯) বছরের একটি ছেলে ও স্বামী নিয়ে ভাড়ায় থেকে মুদি দোকান করতো। এরা অনেক ভালো মানুষ।বলেও জানান তিনি।
বাড়ীর মালিক খোরশেদ আলম বলেন পুলিশ আসছে শুনে আমি ঘটনা স্থলে গিয়ে জিজ্ঞেস করলে উক্ত পুলিশ কর্মকর্তা বলেন কিছুই হয়নি একটা ইনফরমেশনে আসচ্ছিলাম চলে যাচ্ছি বললে আমি তাদের এক হাজার টাকা খরচ দিয়ে চলে যাই। পরে সকালে শুনতে পাই লাকী বেগমকে ধরে নিয়ে গেছে। ভাড়াটিয়ারা বলেন সাদু বেগম নামে এই মহিলাকে আমরা কোন দিন দেখিইনি যদি এদের মধ্যে এই ধরনের লেনদেন থাকতো তাহলে একদিন হলেও দেখতাম বা শুনতাম।
উক্ত মহিলা প্রথমে আশুলিয়ার ইয়ারপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মজিবুর রহমান শাহেদ কর্তৃক চুল কাটছে নাম বললেও পরে, তিনি বলেন আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক শফিউল্লাহ পিস্তল ধরে মজিবুর রহমান শাহেদ এর নাম বলার জন্য ভয় ভিতি দেখিয়েছেন এজন্য আমি তার নাম বলেছি।যাহা ইতিমধ্যে একই মহিলার দুইটি বক্তব্য সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল।
মহল্লা বাসী জানান। আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক শফিউল্লাহ এখানে বলেছেন আমার চাকুরী বাঁচাতে হলে এর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করতেই হবে। চাকুরী বাঁচাতেই হয়তো লাকী নামে উক্ত দোকানিকে আসামি করে উক্ত বাদীনিকে ব্যবহার করে একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। আমরা লাকী বেগমের নিজস্বার্থে জামিন দেওয়ার জোর দাবি জানাচ্ছি। সেই সাথে রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় কে বা কারা এই ধরনের অপরাধে জরিয়ে নিজেদের সার্থহাসিল করার চেষ্টা চালিয়ে আসছেন। এবিষয়ে আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক শফিউল্লাহ ও সাদু বেগম কে আইন প্রয়োগ কারী সংস্থার মাধ্যমে জিজ্ঞাসাবাদ করলেই বেরিয়ে আসবে থলের বিরাল এমনটাই জানিয়েছেন তারা।
এদিকে মিথ্যা মামলায় লাকী বেগম কে আটক করা হয়েছে নিশ্চিত হওয়ার পর উক্ত উপপরিদর্শক শফিউল্লাহ কে ক্লোজ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মজিবুর রহমান শাহেদ সাধারণ সম্পাদক ইয়ারপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ। তিনি আরও বলেনঃ আসন্ন ইউপি নির্বাচনে আমি চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী এজন্যই একটি কুচক্রী মহল আমাকে হলেও প্রতিপক্ষ তাদের সার্থ হাসিল করার উদ্দেশ্য নির্হীহ মানুষ গুলো কে ফাঁসিয়ে দিচ্ছে, স্থানীয় প্রশাসন বিষয় টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে আশাবাদী ভুক্তভোগী পরিবার।